পয়দায়েশ ১–“তৌরাত শরীফের সৃষ্টিবর্ণনা বিজ্ঞানের তথ্যের সঙ্গে মিলে না, কারণ সৃষ্টি ছয় দিনে হয় নি।”

পয়দায়েশ ১–“তৌরাত শরীফের সৃষ্টিবর্ণনা বিজ্ঞানের তথ্যের সঙ্গে মিলে না, কারণ সৃষ্টি ছয় দিনে হয় নি।”

জাকির নায়েকের মতো সমালোচক প্রায়ই দাবি করে বলেন যে বাইবেল অনুযায়ী পৃথিবী ৬টি আক্ষরিক দিনে সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু কোরআন অনুযায়ী সৃষ্টি দিনগুলো আসলে ‘যুগ’। এ দাবিগুলো পরিষ্কাররূপে মিথ্যা—

পয়দায়েশ খণ্ডে তৌরাত শরীফের বর্ণনা দীর্ঘস্থায়ী পৃথিবীর অস্তিত্বের সঙ্গে মিলানোর দুটি ব্যাখ্যার পন্থা আছে। আধুনিক বিজ্ঞানের তথ্যের সঙ্গে মিলানোর প্রচেষ্টা এগুলো নয়, কারণ উভয় মতবাদের মূল থাকে প্রাচীনকাল লেখকদের লেখাতে, যারা আজকাল দীর্ঘস্থায়ী পৃথিবী তথ্য আবিষ্কারের বহুদিন আগে এই ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

পয়দায়েশের প্রথম ব্যাখ্যা : দিন-যুগ ব্যাখ্যাটি

পয়দায়েশের প্রথম অধ্যায়ে “দিনের” মূল হিব্রু শব্দ হল ইয়ম (হিব্রু יום), যেমন করে কোরআনেও একই “দিন” শব্দ (يَوْم ইয়োম ) ব্যবহার হয়েছে। উভয় ভাষায়ই, এই ইয়ম শব্দ দিয়ে বোঝানো হয় ১২ ঘন্টা, ২৪ ঘন্টা, অথবা একটা অনির্দিষ্ট মেয়াদ বা যুগ। আবার কিতাবুল মোকাদ্দসে আমরা পরি যে “প্রভুর কাছে এক দিন এক হাজার বছরের সমান এবং এক হাজার বছর এক দিনের সমান” (ইঞ্জিল ২ পিতর ৩:৮ এবং জবুর শরীফ ৯০:৪)। আবারও তৌরাতে যে শব্দগুলো অনুবাদ হয় “সকাল” (בקר) ও “সন্ধ্যা” (ערב) দিয়ে, সেগুলোর আবার শুধু বোঝায় “ইয়মের শুরু” এবং “ইয়মের শেষ”, যেমন করে বলা হয় ‘the dawn of world history’ [বিশ্ব-ইতিহাসের ভোর] অথবা the sunset years of one’s life’ [একজনের জীবনের সূর্যাস্ত বছরগুলো]। লেখক যে আক্ষরিক সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত বুঝাতে চাননি তা অতি পরিষ্কার, কারণ চতুর্থ দিনে সূর্য দেখা দেওয়ার আগেও তিনি এই בקרערב শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন।

তৌরাতের সৃষ্টির এই দিন-যুগ ব্যাখ্যার সবচেয়ে মজবুত প্রমাণ হল যে ঈসায়ী ইতিহাসের প্রথম ৪০০ বছর ধরে অধিকাংশ তৌরাত-তাফসীরকারীগণ সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতেন যে সৃষ্টির এই ‘দিন’ বা ‘ইয়ম’গুলো দীর্ঘ সময়ের মেয়াদ ছিল (যেমন প্রতি ইয়মের কাল ১০০০ বছর)। এসব দুই হাজার পৃষ্টার তাফসীর লেখা হয়েছে আধুনিক বিজ্ঞানের তথ্যের হাজার বছর আগে, যখন সৃষ্টিতে দিনের দীর্ঘতা বিশ্বাস করার কোনো দ্বিতীয় কারণ ছিল না।

কিন্তু সহীহ হাদিস অনুযায়ী, কোরআনের সৃষ্টি-দিনগুলোর সম্পর্কে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ব্যাখ্যা ছিল আক্ষরিক- ‘শনিবার, রবিবার, সোমবার’, ইত্যাদি হিসেবে ধরে নিয়েছেন:

আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ছ) আমার হাত ধরে বললেন, আল্লাহ্‌ তা’আলা শনিবার দিন মাটি সৃষ্টি করেন। রোববার দিন তিনি এতে পর্বত স্থাপন করেন। সোমবার দিন তিনি বৃক্ষরাজি পয়দা করেন। মঙ্গলবার দিন তিনি আপদ বিপদ সৃষ্টি করেন। বুধবার দিন তিনি নূর পয়দা করেন। বৃহস্পতিবার দিন তিনি যমীনে পশু-পাখি ছড়িয়ে দেন এবং জুম’আর দিন আসরের পর তিনি আদম (আ) কে সৃষ্টি করেন। অর্থাৎ জুম’আর দিনের সময়সমূহের শেষ মুহূর্তে সর্বশেষ মাখলুক আসর থেকে রাত পর্যন্ত সময়ের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি সৃষ্টি করেছেন। (সহীহ মুসলিম #৬৮৮৭)

প্রথম তাফসীরকারীগণ একই ব্যাখ্যা দিলেন; আল-তাবারীতে ইবন আব্বাসের এই কথা আছে—

ইহুদীগণ নবীজীর কাছে এসে তাঁকে জিজ্ঞেস করেন আসমান ও জমীনের সৃষ্টির সম্পর্কে। তিনি বলেন, “রবিবার ও শোমবারে আল্লাহ্‌ তা’আলা দুনিয়া সৃষ্টি করেন। মঙ্গলবারে তিনি পাহাড়পর্বত এবং এদের ব্যবহার সৃষ্টি করেন। বুধবারে তিনি গাছ, পানি, শহর এবং চাষের অনুর্বর জমি সৃষ্টি করেন। এগুলো চার (দিন)। তিনি আবার বললেন (কোরআন উদ্ধৃতি করে): “বল, তোমরা কি তাঁকে অস্বীকার করবেই, যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষে দাঁড় করাইতেছ? তিনি তো জগতসমূহের প্রতিপালক! তিনি স্থাপন করেছেন অটল পর্বতমালা ভূপৃষ্ঠে এবং তাতে রেখেছেন কল্যাণ এবং চারি দিনের মধ্যে তাতে ব্যবস্থা করেছেন খাদ্যের সমভাবে যাচ্‌নাকারীদের জন্য” – বৃহস্পতিবারে, তিনি আসমান সৃষ্টি করেন। শুক্রবারে, ৩ ঘণ্টা বাকি থাকা পর্যন্ত তিনি তারা, সূর্য, চাঁদ, এবং ফেরেশতা তৈরী করেন।”

যেহেতু ইসলাম অনুযায়ী কোরআনের প্রথম সঠিক ব্যাখ্যার উৎস হল সহীহ্‌ হাদিস, সেহেতু জাকির নায়েকের ব্যাখ্যা না মেনে বিশ্বাস করতেই হবে যে কোরআন সৃষ্টির সময়কালকে ২৪-ঘন্টার দিন হিসেবে ব্যাখ্যা করতে হয়।

কিছু সমালোচক হয়তো অভিযোগ করবেন যে তৌরাতের ৬-দিন সৃষ্টি যেহেতু কাজের সপ্তাহের মত, সেহেতু সেটা ২৪-ঘণ্টা দিন হতে হবে। সেটা সত্য যে পয়দায়েশের ৬ দিন সপ্তাহের ৬ দিনের সাথে তুলনা করা হয় (হিজরত ২০:১১)। কিন্তু তৌরাতের অন্যান্য অনুচ্ছেদ থেকে বোঝা যায় যে এই ধরণের সংখ্যার তুলনা আক্ষরিক অর্থ বোঝা উচিত নয়, অর্থাৎ সৃষ্টির ছয় “ইয়োম” যে সপ্তাহের ছয় দিনের সাথে তুলনা করা হয়, তার মানে এই না যে সৃষ্টির “ইয়োম” হল আক্ষরিক ২৪-ঘণ্টার দিন। যেমন তৌরাতের অন্য আয়াতে ৪০ দিনের অবাধ্যতার শাস্তি হিসেবে আল্লাহ্‌ তা’আলা বনি-ইসরাইলকে ৪০ বছরের মরুভূমিতে নির্বাসন পাঠালেন (শুমারী ১৪:৩৪), অথবা দানিয়াল ৯:২৪-২৭ এতে ৪৯০ দিন কে বোঝানো হয় ৪৯০ বছর

পয়দায়েশের দ্বিতীয় ব্যাখ্যা : সাহিত্যিক কাঠামোর ব্যাখ্যা
(Literary Framework Interpretation)

অনেক বিশিষ্ট তৌরাত তাফসীরকারী পয়দায়েশর সৃষ্টি অনুচ্ছেদকে রূহানিক বিষয়ক একটা দৃষ্টিসম্বন্ধী কাব্যিক চিত্র হিসেবে ধরে; যার আক্ষরিক বা কালানুক্রমিকভাবে ব্যাখ্যা করা অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্যের বাইরে পরে। এই অধ্যায়ের কাব্যিক কাঠামো সুস্পষ্ট:

গঠনের দিনগুলো :

ভরানোর দিনগুলো :

দিন ১: “আলো” (৩ আয়াত) দিন ৪: “আলোগুলো” (১৪ আয়াত)
দিন ২: “বায়ুমণ্ডল ও
সমুদ্র” (৭ আয়াত)
দিন ৫: “পাখি ও
মাছ “(২১ আয়াত)
দিন ৩ক: “ভুমি” (৯ আয়াত) দিন ৬ক: “পশু” (২৪ আয়াত)
“মানুষ” (২৬ আয়াত)
দিন ৩খ: “গাছপালা” (১১ আয়াত) দিন ৬খ: “শাক-সবজী” দেওয়া (৩০ আয়াত)

এই চিন্তাধারা অনুযায়ী, “দিন”কে একটা রূপক কাব্যিক কাঠামো হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। একটি কিতাবকে তার মূল সংস্কৃতি ও ভাষার নিয়ম অনুসারে ব্যাখ্যা করতে হয়, এবং আমরা জানি যে হিব্রু সাহিত্যে ঘটনা ধর্মীয় গুরুত্বের ক্রমে লেখা হতো, কালানুক্রমিকভাবে নয়। হিব্রু লেখক মথির সুসমাচারে আমরা একটি স্পষ্ট উদাহরণ পাই-ঈসা মসীহের জীবনের ঘটনাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে ধর্মতত্ত্বীয় বিষয় অনুসারে, যদিও লেখার মধ্যে কালানুক্রমিক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। আমাদের সংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক রীতির কাছে এটা অদ্ভুত লাগে, কিন্তু সেটা হিব্রু সাহিত্যের একটি ধরণ।

আমরা যদি কিতাবের জন্য সবসময় আক্ষরিক কালানুক্রমিক ধারা কঠোরভাবে দাবী করি, তাহলে কোরআনের বেলায়ও সমস্যার সম্মুখীন হই। আমরা যদি সূরা ৪১:৯-১২ এর সৃষ্টির দিনগুলো যোগ করি আমরা আট দিন পাই (২+৪+২), যদিও কোরআনের অন্য আয়াত অনুযায়ী সৃষ্টি ৬ দিনে হল (৭:৫৪, ১০:৩, ১১:৭, ২৫:৫৯)। আমরা কিতাবকে সবসময় পারম্পারিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি না।

কোরআন ও তৌরাত উভয় কিতাবেই আছে সমতুল্য কিছু রহস্যময় ঘটনার পর্যায়ক্রম। কোরআন শরীফের প্রধান সৃষ্টি-বর্ণনা সূরা ৪১:৯-১২ আয়াত অনুযায়ী, সাতটি আসমানের সৃষ্টি হয় পৃথিবীর সৃষ্টির পরে, যদিও বর্তমান বিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী আসমান সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীর সৃষ্টির কোটি কোটি বছর পূর্বে। সূরা বাকারাহ্‌ ২৯ আয়াতে একই কথা বলা হয়েছে—

“তিনি পৃথিবীর সব কিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করিয়াছেন, তৎপর তিনি আকাশের দিকে মনোসংযোগ করেন এবং উহাকে সপ্তাকাশে বিন্যস্ত করেন।” (বাকারাহ্‌ ২৮)

তাহলে কোরআনের মধ্যেও আমরা এমন কালানুক্রমিক জটিলতা দেখতে পাই। তার মানে এই নয়, যে কোরআন ভুল, বরং আমরা দেখি যে সব কিতাবের মধ্যে কিছু জটিল বিষয় থাকে।

কিছু সমালোচক বলেন যে চতুর্থ দিনে সূর্য, চন্দ্র ও তারার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দটি হলো ‘তৈরী করা’, ‘দৃশ্যমান করা’ নয়। আসলে কিন্তু, এখানে হিব্রু “সৃষ্টি” বা “তৈরী” শব্দটি ব্যবহার হয় নি (בּרא, বারা), বরং עשׂה (‛আসাহ্‌) শব্দ ব্যবহার হয়েছে এখানে, যার অর্থ হতে পারে “দৃশ্যমান করা।” এই শব্দটি হিব্রু কিতাবে ১২০০ বার ব্যবহার করা হয়েছে এবং অনেক ধরনের মানে বহন করে, যাদের মধ্যে “করা”, “তৈরি করা”, “দেখানো”, “আবির্ভাব”, “আবির্ভূত করা” ইত্যাদি। এই যুক্তির আলোকে আমরা অবশ্যই এই বলে শেষ করতে পারি যে সূর্য এবং চাঁদ প্রথম দিনে সৃষ্টি (৩য় আয়াত) হয়ে থাকলেও, চতুর্থ দিনে সূর্য এবং চাঁদ পৃথিবীর তলে দৃশ্যমান হয়।


অন্যান্য সম্পর্কিত প্রবন্ধ:
  1. উদাহরণস্বরূপ, পয়দায়েশ ৬:৩ এবং ১৯:১৪এতে ইয়মের অর্থ ‘দিন’ হতে পারে না বরং ‘সময়’কে বোঝায়।
  2. জবুর শরীফের এই অধ্যায় হযরত মূসাকে আরোপ করা হয়েছে, যিনি ঐশী প্রেরণায় তৌরাতের পয়দায়েশ সৃষ্টিবর্ণনাও লিখেছে রেখেছেন।
  3. এই ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনার জন্য দেখুন, Hugh Ross, Creator and the Cosmos, (Navpress, 2001) হ্যূহ্‌ রস, যিনি এই দিন-যুগ ব্যাখ্যার অন্যতম সমর্থক, তিনি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের পি.এইচ.ডি প্রাপ্ত একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং সাবেক ক্যাল-টেকের পোস্ট-ডক্তরাল গবেষক, এবং ভ্যানকুভার রয়াল অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটির ইতিহাসে সবচেয়ে কমবয়সী ডাইরেক্টর অব অবসার্ভেশন্স।
  4. হ্যূহ্‌ রস লিখেন, “Prior to the Nicene Council, the early Church fathers wrote two thousand pages of commentary on the Genesis creation days, yet did not devote a word to disparaging each other’s viewpoints on the creation time scale. All these early scholars accepted that yom could mean “a long time period.” The majority explicitly taught that the Genesis creation days were extended time periods (something like a thousand years per yom). Not one Ante-Nicene Father explicitly endorsed the 24-hour interpretation.” [নাইসিয়া পরিষদের আগে, প্রথম চার্চ নেতাগণ পয়দায়েশের সৃষ্টির অনুচ্ছেদের বিষয়ে দু’হাজার পৃষ্ঠার তফসীর লিখেছেন, কিন্তু এক শব্দ দিয়েও এরা পরস্পরের সৃষ্টির সময় মতামত সমালোচনা করেন নি। এই সব শিক্ষার্থীগণ গ্রহণ করেছেন যে ‘ইয়ম’এর অর্থ হতে পারে “দীর্ঘকাল সময়।” এরা বেশির ভাগই সুনির্দিষ্টভাবে শিক্ষা দিতেন যে পয়দায়েশের সৃষ্টির দিনগুলো দীর্ঘ সময়ের মেয়াদ ছিল (যেমন প্রতি ইয়মে এক হাজার বছর)। নাইসিয়া পরিষদের আগে, একটাও নেতা সুনির্দিষ্টভাবে ২৪-ঘনটা ব্যাখ্যার সমর্থন দেন নি।] (The Genesis Debate, ed David Hagopian (Crux Press: Mission Viejo, 2001), p 125,126.
  5. হাদীস নং-৬৮৮৭, সহীহ্‌ মুসলিম শরীফ: সকল খণ্ড একত্রে, অনুবাদ: মওলানা মুফতী মুহাম্মদ জাকারিয়া, (মীনা বুক হাউস, ঢাকা ২০০৮), পৃষ্ঠা ১০৪৬।
  6. The History of al-Tabari, Volume 1- General Introduction and from the Creation to the Flood (trans. Franz Rosenthal, State University of New York Press, Albany 1989), pp. 187-193:
  7. পাঠকের কাছে এই মনুষ্যদৃষ্টিকোণ মানিয়ে নেওয়া কঠিন হলে, আমরা কোরআন শরীফে এমন মনুষ্যদৃষ্টিকোণ মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন দেখতে পায়। সূরা আল-কাহ্‌ফ ১৮:৮৬ আয়াতে আমরা পড়ি যে মুসাফির যুল-কারনায়ন “চলিতে চলিতে সে যখন সূর্যের অস্তগমন স্থানে পৌছিল তখন সে সূর্যকে এক পঙ্গকিল জলাশয়ে অস্তগমন করিতে দেখিল।” বর্তমান বিজ্ঞানের তথ্যের সংগে মিলানোর জন্য এই “সূর্যের অস্তগমনের স্থান” শুধু মনুষ্যদৃষ্টিকোণ থেকে এক বর্ণনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। তেমনই ভাবে আমরা কিতাবের বর্ণনা সবসময় একটি কাল্পনিক দূর মহাকাশে অবস্থিত দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করতে পারি না।

কোনো প্রশ্ন বা মন্তব্য থাকলে আমরা শুনতে চাই! নিচের ফর্ম দিয়ে যোগাযোগ করুন:

Enable javascript in your browser if this form does not load.

Leave a Reply

Your email address will not be published.