মাকে কে বেশি সন্মান দিয়েছে?

প্রশ্ন:

মাকে কে বেশি সন্মান দিয়েছে? মোহাম্মদ সা: Vs খ্রিষ্টানের যীশু

মোহাম্মদ সঃ ও কোরআনের শিক্ষা……

“তোমার মা বৃ্দ্ধা হয়ে জালাতন করলেও “উহ” শব্দও বলো না” (কোরআন ১৭:২৩)

যীশু ও বাইবেলের শিক্ষা…..

“যখন সমস্ত মদ ফুরিয়ে গেল- তখন যীশুর মা তাঁর কাছে এসে বললেন- “এদের আর মদ নেই৷’ তখন যীশু বললেন, ‘হে নারী- তুমি আমায় কেন বলছ কি করা উচিত?” (যোহন ২:৩-৪)

কোন সুস্থ মানুষ, তার নিজ মাকে “হে নারী” বলে ডাকাবে। এই কারনেই, খ্রিষ্টানদের সব “মা” রা বৃদ্ধাশ্রমে থাকে।।

উত্তর:

তিনি পিতা-মাতাকে সম্মান করার উপর জোর দিতেন তাঁর শিক্ষার মধ্যে:

“জেরুজালেম থেকে কয়েকজন ফরীশী ও আলেম ঈসার কাছে এসে বললেন, ২ “পুরানো দিনের আলেমদের দেওয়া যে নিয়ম চলে আসছে আপনার সাহাবীরা তা মেনে চলে না কেন? খাওয়ার আগে তারা হাত ধোয় না।” ৩ জবাবে ঈসা বললেন, “যে নিয়ম চলে আসছে তার জন্য আপনারাই বা কেন আল্লাহ্‌র হুকুম অমান্য করেন? ৪ আল্লাহ্ বলেছেন, ‘মা-বাবাকে সম্মান কোরো’ এবং ‘যার কথায় মা-বাবার প্রতি অসম্মান থাকে তাকে অবশ্যই হত্যা করতে হবে।’ ৫ কিন্তু আপনারা বলে থাকেন, যদি কেউ তার মা কিংবা বাবাকে বলে, ‘আমার যে জিনিসের দ্বারা তোমার সাহায্য হতে পারত, তা আল্লাহ্‌র কাছে দেওয়া হয়েছে,’ ৬ তবে পিতা-মাতাকে তার আর সম্মান করবার দরকার নেই। আপনাদের এই সব চলতি নিয়মের জন্য আপনারা আল্লাহ্‌র কালাম বাতিল করেছেন।” (মথি ১৫:১-৬)

ইঞ্জিলে ঈসা মসীহের আচরণ সম্বন্ধে সর্বপ্রথমে বলা হয়েছে যে তিনি তাঁর বাবা-মায়ের “বাধ্য হয়ে রইলেন” (লূক ২:৫১)। তাঁর মৃত্যুর সময়ে তিনি তাঁর মায়ের দেখাশোনার ভার তার প্রিয় সাহাবীকে দিলেন (ইউহোন্না ১৯:২৬,২৭)। এই তিনটি রেফারেন্স থেকে আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারি যে বাবা-মাকে সম্মান করা ঈসা মসীহ্‌র চোখে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাহলে ইউহোন্না ২:৪ আয়াতে ঈসা মসীহ্‌ কেন তার মাকে “হে নারী” বলে ডাকলেন? উপরোক্ত তিনটি আয়াতের আলোকে বোঝা যায় এটা অসম্মান হতে পারে না, অন্য ব্যাখ্যা আছে। এখানে ‘নারী’-এর যে মূল গ্রিক শব্দ আছে γυνή ‘গুনাই’ সেটার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা বলেন “It was not rude or inappropriate for a man in the first century to speak to a lady by saying, “Woman (gunai)….” (প্রথম শতাব্দীতে কোন ভদ্রমহিলার কাছে “গুনাই…” ডাকা অভদ্র বা অনুপযুক্ত ছিল না…”) এবং এটা “একটি অতি সম্মানজনক ও আদরের ডাক” ছিল (this “was a highly respectful and affectionate mode of address”) (Vincent, 1997); “এর মধ্যে বেয়াদবের কোন ইঙ্গিত নেই” (“with no idea of censure”) (Robertson, 1932, p. 34)। অর্থাৎ বাংলা বা ইংরেজিতে বর্তমান যুগে কাউকে ‘নারী’ সরাসরি বলে ডাকা যেমন, তখনকার প্রাচীন ইহুদি সমাজে সেটা আলাদা ছিল। তাই সেটা অসম্মানের কথা ছিল না। আরেকটি ব্যাখ্যা হল যে ঈসার মা সহ আশেপাশে যারা ঈসা মসীহের কথা শুনছিলেন তারা তো ইহুদি হয়ে তৌরাত শরিফের সঙ্গে সুপরিচিত ছিল। পয়দায়েশের তৃতীয় অধ্যায়ে মা হাওয়াকে সরাসরি ‘হাওয়া’ না বলে তাকে সেখানে শুধু ‘নারী’ (אשה) বলা হয়েছে বার বার (আয়াত ১,২ ,৪ ,৬, ১২, ১৩, ১৫, ১৬) যেটা কিতাবের অন্য জায়গায় অন্য কারো ক্ষেত্রে বলা হয়নি। তাই ঈসার শ্রোতারা বুঝতে পারত যে ঈসা মসীহ তার মাকে সর্বপ্রথম মা হাওয়ার সঙ্গে একটি লিংক করছিলেন। আল্লাহ্‌ মা হাওয়া সম্বন্ধে বিশেষ একটি প্রতিজ্ঞা দিয়েছেন যে:

“আমি তোমার [শয়তান] ও স্ত্রীলোকের মধ্যে এবং তোমার বংশ ও স্ত্রীলোকের মধ্য দিয়ে আসা বংশের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করব। সেই বংশের একজন তোমার মাথা পিষে দেবে আর তুমি তার পায়ের গোড়ালীতে ছোবল মারবে। (মথি ১৫:১-৬)

এটা হল ঈসা মসীহের সম্বন্ধে একটি ভবিষদ্বানী: শয়তান যে পাপ শুরু করেছে এর সমাধান “নারীর বংশের একজন” এর মাধ্যমে আসবে। শয়তান তার পায়ের গোড়ালীতে ছোবল মারবে (মানে ঈসাকে ক্ষতি করবে), কিন্তু ঈসা শয়তানের “মাথা পিষে দেবে” অর্থাৎ ক্রুশীয় মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হয়ে শয়তানের উপর বিজয়ী হবে। নারীর “বংশের একজন” বলতে ইতিহাসে শুধুমাত্র একজন আছে যিনি বিনা পিতায় শুধুমাত্র নারীর বংশে এসেছেন, তিনি মরিয়মের ছেলে ঈসা। তাই ঈসা মসীহ তার মা মরিয়মকে সবার সামনে ‘নারী’ বলে বুঝাতে চাচ্ছিলেন যে আল্লাহ্‌ মা মরিয়মকে মনোনীত করেছেন সেই সর্বপ্রথম নারীর ওয়াদা পূর্ণতা করতে।

কোনো প্রশ্ন বা মন্তব্য থাকলে আমরা শুনতে চাই! নিচের ফর্ম দিয়ে যোগাযোগ করুন:

Enable javascript in your browser if this form does not load.

Leave a Reply

Your email address will not be published.