ইউহোন্না ৮:১-১১ – মূল ইঞ্জিলে অনুপস্থিত?

ইউহোন্না ৮:১-১১—“কিতাবুল মোকাদ্দস কীভাবে নির্ভরযোগ্য হতে পারে যেহেতু এই অনুচ্ছেদ সবচেয়ে প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে ছিল না?”

মাঝে মাঝে কিছু সমালোচকগণ এই অনুচ্ছেদ দেখিয়ে বলেন যে কিতাবুল মোকাদ্দস নির্ভরযোগ্য নয়, যেহেতু কিছু পাণ্ডুলিপিতে এটা লূকের শেষে পাওয়া যায় এবং অন্য কিছু পাণ্ডুলিপিতে এটা নাই। কিন্তু ইউহোন্না ৮:১-১১ এর নির্ভরযোগ্যতার পক্ষে আমাদের যথেষ্ঠ প্রমাণ রয়েছে। এই অনুচ্ছেদের ভাষা এবং স্টাইল ইউহোন্নার সঙ্গে ভালভাবে মিলে যায়, এবং ঘটনার ক্রমের মধ্যে মিলে যায়। আবার মনে রাখতে হবে যে এই দুই ছোট বিতর্কিত অনুচ্ছেদ (মার্ক ১৬:৯-২০ এবং ইউহোন্না ৮:১-১১) হচ্ছে কিতাবুল মোকাদ্দসের মাত্র ০.০০০৭% এবং এগুলো থাকলে বা না থাকলে কিতাবের শিক্ষার কোনো পরিবর্তন হয় না।

যারা এগুলো দিয়ে ইঞ্জিলের নির্ভরযোগ্যতা প্রশ্ন করেন, তারা বলে না যে কোরআনের ক্ষেত্রেও সেরকম সন্দেহজনক অংশ আছে। নবীজী (স) ইবন মাসঊদকে সম্মান করেছেন কোরআনের শ্রেষ্ঠ পাঠক হিসেবে—

আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী(স)-কে বলতে শুনেছি, চার ব্যক্তির নিকট থেকে তোমরা কোরআনের পাঠ গ্রহণ করঃ (১) ইবনে মাসউদ (২) আবু হুযাইফার মুক্ত গোলাম সালিম (৩) উবাই (ইবনে কা’ব) ও (৪) মুয়ায ইবনে জাবাল।” (সহীহ আল-বোখারী, ৩৫২৪ (জামে’ সহীহ্‌ আল-বোখারী অনুবাদ মাওলানা মোবারক করীম জওহর, খান ব্রাদার্স আণ্ড কোম্পানি, ৯ বাংলাবাজার ১১০০; ঢাকা ২০০৮, পৃষ্ঠা ৬৪৩)

এই ইবনে মাসউদ সূরা ফাতেহা, সূরা আল-ফালাক, এবং সূরা আন-নাস কোরআনের অংশ হিসেবে তিনি গ্রহণ করেননি। অপর দিকে, উপরোক্ত উবাই ইবনে কা’ব (রা)-এর মুসহাফে দু’টি বাড়তি সূরা ছিল—সূরা আল-হাফ্‌দ এবং সূরা আল-খাল’—
সূরা আল-হাফ্দ
সূরা আল-খাল

হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রা)-এর মুসহাফের সূরা আল-হাফ্দ এবং সূরা আল-খাল
(বর্তমান কোরআনে অনুপস্থিত)
আব্দুল মালিক বিন মারওয়ানের কথা অনুযায়ী, আলী ইবন আবি তালিবের কোরআনের মধ্যে “আল-খাফ্‌ধ” নামক একটি বাড়তি সূরা ছিল, যেটা আজকাল কোরআনে নাই। আবার বিভিন্ন শি’য়া উলেমাদের কথা অনুযায়ী, হযরত উসমান কোরআন শরীফ থেকে “সূরা উলায়াহ্‌” এবং “সূরা নুরাইন” নামক দু’টি সূরা বাদ দিয়েছেন।

হয়ত এইজন্য ‘আব্দুল্লাহ্‌ ইবন ‘ওমর (মৃঃ৬৯২) বলেছেন, “কেউ না বলুক, ‘আমি পুরো কোরআন শিখেছি!’ তা কীভাবে সম্ভব যেহেতু তার অনেকাংশই হারিয়ে গেছে? তিনি বরং বলুক, ‘যা বাকি রয়েছে তাই শিখেছি’। (জালাল উদ্দিন সুয়ূতি, আল-ইত্‌কান ফী উলুম আল-কোরআন, লাহোর: ইদারাহ্‌ ইসলামিয়াত, ১৯৮২, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫২৪.) এই ‘আব্দুল্লাহ্‌ ইবন ‘ওমর শুধু খলিফা হযরত ওসমানের সন্তান নয় বরং তিনি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর আপন দুলা-ভাই ছিলেন এবং একজন বিখ্যাত সাহাবী হিসেবে নবীজীর পাশে যুদ্ধ করেছেন।

মূল কথা হল যে ইঞ্জিল-কোরআন উভয়ই গ্রন্থের কিছু অংশ নিয়ে একই রকমের প্রশ্ন রয়েছে। এই সব প্রশ্নের পরেও যদি কোরআনের নির্ভরযোগ্যতা রয়ে যায়, তাহলে একই মাপকাঠিতে ইঞ্জিলের নির্ভরযোগ্যতা-ও স্বীকার করতে হবে। কিন্তু এরকম কঠিন প্রশ্ন লুকিয়ে না রেখে সেগুলো খোলাখুলিভাবে আলোচনা করে আল্লাহ্‌র কালাম আন্তরিকভাবে বুঝতে চেষ্টা করতে হবে।

    ১. ইমাম আহমাদ, বাজ্জার, তাবারানি, ইবন মারদুয়াহ্, আবু ইয়া’লা, আব্দুল্লাহ্ বিন আহ্মাদ বিন হানবাল, হুমায়দি, আবু নু’আইম, ইবন হিব্বান এবং অন্যান্য বিষেশজ্ঞরা বিভিন্ন সনদে এর কথা উল্লেখ করেছেন।
    ২. সুয়ূতি, আল-ইত্কান ফী উলুম আল-কোরআন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৫৩,১৮৬.

কোনো প্রশ্ন বা মন্তব্য থাকলে আমরা শুনতে চাই! নিচের ফর্ম দিয়ে যোগাযোগ করুন:

Enable javascript in your browser if this form does not load.

Leave a Reply

Your email address will not be published.